 |
Source: Hindustan Times, Supreme Court of India |
বর্তমান ভারত সরকারের বিজেপি গ্যাং যেন ভুলে গেছে যে, ভারতে সবাই রঞ্জন গগই বা চন্দ্রচূড়ের মতো নয়। সবাই অর্থলোভী বা সুবিধাবাদী নয়, সবাই উচ্ছিষ্ট খাবারের জন্য লালায়িত নয়। ভারতে এমন বিচারপতি আছেন যারা মাথা উঁচু করে বিচার দিতে চান, যারা সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা কী হওয়া উচিত তা জানেন। ভারতে এমন বিচারপতি আছেন যারা বোঝেন যে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা যদি সুবিধাবাদী হয়ে যান, তাহলে গণতন্ত্র একেবারে ধ্বংস হয়ে যাবে। এই স্মরণীয় মুহূর্তে বিচারপতি সঞ্জীব খান্নাকে দেখেছেন? আর তার সঙ্গে যুগসন্ধিক্ষণে যোগ দিয়েছেন বাবাসাহেব ডক্টর বি আর আম্বেডকরের আদর্শ পুত্র বিচারপতি বি আর গাভাই।
ঘটনাক্রমে, এই বিচারপতি গাভাই এবং সুপ্রিম কোর্টকে গুড়িয়ে দেওয়ার জন্যই কামান ডাকতে শুরু করেছেন মহামহিম রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর তাদের সামনে রেখেছেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, নরেন্দ্র মোদি এবং সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার মাধ্যমে বলার চেষ্টা করছেন যে, রাজ্যপাল এবং রাষ্ট্রপতিকে আদেশ-নির্দেশ দেওয়ার অধিকার সুপ্রিম কোর্টের নেই। কোনো রাজ্যের বিল যদি রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতি আটকে রাখেন, তাহলে সুপ্রিম কোর্ট তাদের নির্দেশ দিতে পারে না। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এটা বলছেন। আপনারা তো জানেন, নরেন্দ্র মোদির শিক্ষাগত যোগ্যতা কতটুকু, তার পড়াশোনার পরিধি কতটা। সেই কারণে তিনি এইসব কথা বলতে পারেন। রাষ্ট্রপতিও হয়তো এই লেভেলে পড়াশোনা করেননি। কিন্তু বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের মতো একজন নির্ভীক বিচারপতি, যিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, তিনি সত্যি সত্যি এই রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীকে, যারা সংবিধান জানেন না, আইন বোঝেন না, তাদের সংবিধানের পাঠ শেখাচ্ছেন। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন যে, নির্বাহী বা সংসদ যদি ভারতের সংবিধানকে অমান্য করে, তাহলে সমস্ত আইনসভা ভেঙে পড়বে, গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাবে।
বিচারপতি গাভাই সলিসিটর জেনারেলকে একটা একটা করে বোঝাচ্ছেন। আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরব কীভাবে এই সংঘাত শুরু হয়েছে, কীভাবে এরা মহামান্য সুপ্রিম কোর্টকে ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, কামান দাগিয়ে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিজেদের তাবে এনে পালিত আজ্ঞাবহ হিসেবে পরিণত করার চেষ্টা করছে।
এই কেসটি রাজ্যের বিল নিয়ে। এটার সংঘাত শুরু হলো কী করে? বিল পাস করা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত বহুদিনের। আর আমরা জানি, বিজেপি সরকার আসার পর এই সংঘাত একেবারে প্রকাশ্যে চলে এসেছে। অভিযোগ শুরু হয়েছে যে, রাজ্যের বিধানসভায় পাস হওয়া বিলগুলো রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতি দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখছেন। ফলে রাজ্যের জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির বিলগুলো দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা হচ্ছে এবং সংশোধনের জন্য ফেরতও পাঠানো হচ্ছে না। কে ফেরত পাঠাচ্ছে না? এই রাজ্যপাল এবং রাষ্ট্রপতি। ফলে রাজ্যের মানুষগুলো আইন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আইন পাস না হলে জনস্বার্থের কাজগুলো আটকে থাকবে। বিধানসভায় বিল আনলে তা রাজ্যপালের কাছে পাঠাতে হয়। আমরা জানি, রাজ্যপাল কী করেন? সেই বিলে সই করে আইনে পরিণত করেন।
তামিলনাড়ু বিধানসভায় বিল পাস হলে সেখানকার রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে পাঠানো হয়। এমন ১০টি বিল—একটা দুটো নয়, ১০টি বিল—পাঠানো হয়েছে। এই আরএন রবি, তিনি আরএসএস-এর লোক। স্বাভাবিকভাবে বুঝতে পারছেন যে, রাজ্যগুলোকে কব্জা করার জন্য বা তাবে রাখার জন্য বিজেপি গ্যাং আরএসএস-এর ডিপো থেকে এই ধরনের রাজ্যপালকে নিয়ে এসে রাজ্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গে দেখেছেন যে, জগদীপ ধনখড়কে চাপিয়ে দিয়ে রাজ্যের ১২টা বাজানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এখানকার শাসকেরা শক্তিশালী বলে ধনখড় বিষ প্রয়োগ করতে পারেনি। এখনও চেষ্টা চলছে। কিন্তু বাংলা অন্য জিনিস। অন্য ক্ষেত্রে দেখুন, তামিলনাড়ুর একটা আলাদা ইতিহাস আছে, আলাদা সংস্কৃতি আছে। সেই তামিলনাড়ুর ১০টি বিলকে রাজ্যপাল আরএন রবি সই না করে চেপে রেখে দিলেন। সেই একই বিল আবার রাজ্য বিধানসভায় পাস করে আরএন রবির কাছে পাঠানো হলো।
এবার নিয়ম কী? যে একই বিল যদি বিধানসভায় পাস হয়ে রাজ্যপালের কাছে আসে, তবে রাজ্যপাল সেই বিলে সই করতে বাধ্য। এটা সংবিধানের নির্দেশ। একইভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষেত্রে, যদি কোনো বিল তৈরি করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয় এবং রাষ্ট্রপতি সই না করে আটকে রাখেন, তাহলে কেন্দ্র আবার একই বিল পাঠালে রাষ্ট্রপতির সই করা ছাড়া উপায় নেই। এটাই সংবিধান। কিন্তু রাজ্যপাল সেটা না করে ডিলে করার জন্য কী করলেন? তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দিলেন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সেটাকে দীর্ঘদিন চেপে রেখে দিলেন। ফলে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন এবং তৎকালীন চিফ জাস্টিস ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের কাছে নালিশ জানালেন।
সুপ্রিম কোর্টের শুনানি শুরু হলো। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট প্রথমে তামিলনাড়ু, কেরল এবং পাঞ্জাবের মতো রাজ্যগুলির অভিযোগ শুনে বলেছিল যে, রাজ্যপালরা বিলগুলোতে অসীমকাল ধরে বিলম্ব করতে পারেন না। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২০০-এ বলা হয়েছে যে, রাজ্যপালকে 'যত তাড়াতাড়ি সম্ভব' (as soon as possible) বিলগুলোতে সই করতে হবে বা অন্য কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু যদি তারা অনন্তকাল ধরে আটকে রাখেন, তাহলে এই শব্দগুলোর অর্থ হারিয়ে যাবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, জেবি পার্দিওয়ালা এবং মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর রায় দিয়েছিল যে, রাজ্যপালরা 'পকেট ভেটো' (pocket veto) ব্যবহার করতে পারেন না, অর্থাৎ নীরবে আটকে রাখতে পারেন না।ea5a91 এই রায়ে বলা হয়েছে যে, রাজ্যপালের চারটি বিকল্প আছে: সই করা, অস্বীকার করা, রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো বা বিধানসভায় ফেরত পাঠানো। কিন্তু নিষ্ক্রিয়তা কোনো বিকল্প নয়।
এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সুপ্রিম কোর্ট আরও একটি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার বনাম তামিলনাড়ু রাজ্যপাল মামলায়। ৮ এপ্রিল ২০২৫-এ সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেছে যে, রাজ্যপাল আরএন রবির ১০টি বিলে সই না করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো 'অবৈধ এবং ভুল'। বিচারপতি এস সুরেশ কুমার এবং আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে যে, রাজ্যপাল অসীমকাল ধরে বিল আটকে রাখতে পারেন না। প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যপাল এবং রাষ্ট্রপতির জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।
উদাহরণস্বরূপ, যদি বিধানসভা বিল পুনরায় পাস করে, তাহলে রাজ্যপালকে অবিলম্বে সই করতে হবে। এই ১০টি বিলের মধ্যে ছিল: তামিলনাড়ু বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনী, অনলাইন জুয়া নিষিদ্ধকরণ আইন, কৃষি-সংক্রান্ত বিল, শিক্ষা-সংক্রান্ত বিল ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ছিল জনস্বার্থের, যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন, অনলাইন জুয়ার কারণে যুবকদের রক্ষা করা ইত্যাদি। রাজ্যপালের এই বিলম্বের কারণে তামিলনাড়ুর জনগণ বঞ্চিত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড গণতন্ত্রের জন্য হুমকি, কারণ এতে নির্বাচিত সরকারের কাজ আটকে যায়।
এই রায়ের পর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ২০২৫ সালের মে মাসে সুপ্রিম কোর্টের কাছে একটি প্রেসিডেন্সিয়াল রেফারেন্স পাঠিয়েছেন অনুচ্ছেদ ১৪৩-এর অধীনে। এতে ১৪টি প্রশ্ন রয়েছে, যেমন: সুপ্রিম কোর্ট কি রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতির জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারে? 'যত তাড়াতাড়ি সম্ভব' এর অর্থ কী? যদি তারা বিলম্ব করেন, তাহলে কি 'ডিমড অ্যাসেন্ট' (deemed assent) প্রযোজ্য হবে? ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে এই রেফারেন্সের শুনানি চলছে। ১৯ আগস্ট ২০২৫-এ সুপ্রিম কোর্টের কনস্টিটিউশন বেঞ্চ বলেছে যে, সময়সীমা নির্ধারণ করলে সাংবিধানিক বিশৃঙ্খলা হতে পারে, কিন্তু কেন্দ্র সরকারের যুক্তি হলো যে, রাজ্যপালের ক্ষমতা অসীম এবং এটি বিচারযোগ্য নয়। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেছেন যে, রাজ্যগুলো সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করতে পারে না রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে।
এই সংঘাত শুধু তামিলনাড়ুতে নয়। কেরলে রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান ৮টি বিল আটকে রেখেছিলেন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে কেরল সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায়। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে, রাজ্যপাল অসীমকাল ধরে নীরব থাকতে পারেন না। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে কেরল সরকার তাদের পিটিশন প্রত্যাহার করে নেয়, কারণ রাজ্যপাল কিছু বিলে সই করেছেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি একটি বিল অস্বীকার করেছেন কারণ না দিয়ে, যা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরোধী। এই বিল ছিল মালয়ালম ভাষা প্রচারের জন্য। পাঞ্জাবে রাজ্যপাল বনওয়ারিলাল পুরোহিত কয়েকটি বিল আটকে রেখেছিলেন। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে, এটি 'গুরুতর উদ্বেগের বিষয়'। ২০২৫ সালের আগস্টে পাঞ্জাব সরকারের পিটিশনের শুনানি স্থগিত রাখা হয়েছে কনস্টিটিউশন বেঞ্চের রায়ের অপেক্ষায়।
পশ্চিমবঙ্গে জগদীপ ধনখড় রাজ্যপাল থাকাকালীন অনেক বিল আটকে রেখেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, ২০২১-২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়-সংক্রান্ত বিল, স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত বিল ইত্যাদি। এখনও সিভি আনন্দ বোসের সময়েও সংঘাত চলছে। এইসব দেখে বোঝা যায় যে, বিজেপি সরকার অ-বিজেপি রাজ্যগুলোকে দুর্বল করার জন্য রাজ্যপালদের ব্যবহার করছে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২০০ বলছে যে, রাজ্যপালকে বিলে সই করতে হবে বা ফেরত পাঠাতে হবে। অনুচ্ছেদ ২০১-এ রাষ্ট্রপতির ভূমিকা। কিন্তু বিজেপি এগুলোকে অমান্য করছে।
এই সংঘাতের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। বিজেপি চায় এক দেশ, এক নেতা, এক ভাষা। কিন্তু ভারত ইউনিয়ন অফ স্টেটস, অর্থাৎ রাজ্যগুলোর মিলনে গঠিত। এখানে বহুত্ববাদ, বিভিন্ন সংস্কৃতি। বিচারপতি গাভাই, যিনি আম্বেডকরের আদর্শ অনুসরণ করেন, তিনি গণতন্ত্র রক্ষার জন্য দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, রাজ্যপাল কি নির্বাচিত সরকারের থেকে বড়? যদি বিল আটকে রাখেন, তাহলে আইনসভা অকেজো হয়ে যাবে। সাংবিধানিক বেঞ্চে বিচারপতি গাভাইয়ের নেতৃত্বে সূর্যকান্ত, বিক্রমনাথ, পিএস নরসিংহা এবং এএস চন্দুরকর ছিলেন। তারা তুষার মেহতাকে প্রশ্ন করেছেন যে, রাজ্যপাল কি অনির্দিষ্টকাল ধরে বিল আটকে রাখতে পারেন?
অন্যদিকে, কেন্দ্রের বিলগুলোতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু রাতারাতি সই করে দেন। যেমন সিএএ (CAA), যা অসাংবিধানিক বলে অভিযোগ। এতে অনেক মানুষ নাগরিকত্ব হারাতে পারে, আদিবাসীদের ডকুমেন্ট নেই। কৃষি আইনগুলোতে কৃষকরা আন্দোলন করেছিল। কিন্তু অ-বিজেপি রাজ্যের বিলগুলো ৪-৫ বছর ধরে আটকে। এটা ষড়যন্ত্র। গণতন্ত্রে পক্ষ-বিপক্ষ থাকবে, কিন্তু বিজেপি বিপক্ষকে দমন করতে চায়।
তুষার মেহতা বলেন, অনুচ্ছেদ ২০০-এ রাজ্যপালের ক্ষমতা অসীম। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বলেছে না। যদি একই বিল পুনরায় পাস হয়, সই করতে বাধ্য। রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর পরও ডিলে। এটা অ-বিজেপি রাজ্যগুলোকে অসহযোগিতা। বিলে অর্থ বরাদ্দ থাকে, সেটা আটকে দেওয়া।
বিচারপতি গাভাই গণতন্ত্র রক্ষার জন্য হিমালয়ের মতো দাঁড়িয়েছেন। ভারতবর্ষে বহুত্ববাদ, এক দেশ এক ভাষা চলবে না। ব্রাহ্মণবাদী সৈরতন্ত্র ফ্যাসিজম চলবে না। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, উপরাষ্ট্রপতি সংবিধান জানেন না। উপরাষ্ট্রপতি ধনখড় বলেছেন, রাষ্ট্রপতিকে নির্দেশ দেওয়া যাবে না, কারণ তারা ইমিউনিটি আছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, এটা আইনসভার দায়িত্ব নয়, বিচারিক পর্যালোচনা সম্ভব।
এই সংঘাত চলছে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত। ২৬ আগস্ট ২০২৫-এ সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ২০২০ সালের বিল ২০২৫ সালেও সই না হলে কী করা যাবে? এটা গণতন্ত্রের জন্য বিপদ। বিজেপি গ্যাং এইভাবে সুপ্রিম কোর্টকে আক্রমণ করছে, কিন্তু বিচারপতিরা দাঁড়িয়ে আছেন। এটা ভারতের গণতন্ত্রের জয়। রাজ্যগুলোকে স্বাধীনতা দিতে হবে, না হলে ফেডারেলিজম ধ্বংস হবে।